নিজস্ব প্রতিবেদক
সাম্প্রতিক সময়ে নাসা গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ ভূমি ও স্থাবর সম্পদ বিক্রির উদ্যোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র বিতর্ক ও উদ্বেগ। অভিযোগ উঠেছে, একটি স্বার্থান্বেষী মহল অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটির মূল্যবান জমি ও সম্পদ বর্তমান বাজারমূল্যের তুলনায় প্রায় অর্ধেক দামে বিক্রির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, “এই সম্পদগুলো ন্যায্য মূল্য গোপন রেখে বিক্রি করা হলে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে সংশ্লিষ্ট ঋণদাতা ব্যাংকগুলো, কারণ তারা জমির প্রকৃত বাজারমূল্য অনুযায়ী তাদের ঋণ সুরক্ষা হারাবে।”
নাসা গ্রুপের অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “এই ধরনের অনৈতিক ও অস্বচ্ছ সম্পদ বিক্রয় কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে প্রতিষ্ঠানটি ঋণ পরিশোধে মারাত্মকভাবে ব্যর্থ হতে পারে। এর ফলে নাসা গ্রুপ আরও গভীর আর্থিক সংকটে পড়বে, যার প্রভাব পড়বে দেশের সামগ্রিক আর্থিক খাত ও বিনিয়োগ পরিবেশে।”
প্রতিষ্ঠানটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান,
“এই সম্পদগুলো যদি প্রকৃত বাজারমূল্যের অনেক কম দামে বিক্রি করা হয়, তাহলে একদিকে ব্যাংক তার ঋণের নিরাপত্তা হারাবে, অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানটি ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে। শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হবে উভয় পক্ষই।”
আরও অভিযোগ করা হয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এই সম্পদ বিক্রির বিপক্ষে অবস্থান নিলেও একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী আদালতের আশ্রয় নিয়ে এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
নাসা গ্রুপের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, কোনো স্বার্থান্বেষী বা সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর হাতে এসব গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ বিক্রির দায়িত্ব দেওয়া হলে তা জনস্বার্থের পরিপন্থী হবে। বরং সংশ্লিষ্ট ঋণদাতা ব্যাংকগুলো যদি আইনসম্মত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় সম্পদের মূল্যায়ন ও বিক্রয় প্রক্রিয়া পরিচালনা করে, তাহলে সম্পত্তির প্রকৃত বাজারমূল্য নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে সম্পদ বিক্রি করা হলে শুধু ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানই নয়, দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগ আস্থাও সুরক্ষিত থাকবে।