পবিপ্রবির মেধাবী ছাত্র দেবাশীষ মন্ডল হত্যার  ৪ বছর: নেপথ্যের নায়করা ধরাছোঁয়ার বাইরে

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest
Share on skype
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on print

পটুয়াখালী প্রতিনিধি 

পটুয়াখালী বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) মেধাবী ছাএ দেবাশীষ মন্ডল নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হবার স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস পবিপ্রবির তৎকালীন দুর্নীতিবাজ ভিসি . মোঃ হারুনর রশীদের নিয়োগ বানিজ্য সিন্ডিকেটের নির্মমতার শিকার হয়ে এই মেধাবী তরুণটি অকালে প্রাণ হারায়। পবিপ্রবির মেধাবী  ছাএ দেবাশীষ মন্ডল আত্মহত্যার আজ বছর পুর্ন হতে চললেও আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারীরা ধরাছোয়ার বাইরে। দেবাশীষের পরিবার এবং পবিপ্রবির ছাএ, শিক্ষক, এলাকার সুশীল সমাজসহ অধিকাংশের দাবী এটি আত্নহত্যা নয়, একটি হত্যাকান্ড। 

অনুসন্ধানে জানাযায়, খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার কাঁঠালিয়া গ্রামের দরিদ্র বাবা পরিমল মন্ডলের ছেলে দেবাশীষ মন্ডল পবিপ্রবির কৃষি অনুষদ থেকে অনার্সে মেধাতালিকায় ৩য় স্থান (.৮২ স্কেল .০০ এর মধ্যে) এবং মৃওিকা বিজ্ঞান  বিভাগ থেকে মাস্টার্সে মেধা তালিকায় ১ম স্থান অর্জন করে।  পবিপ্রবির শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষায় ক্যাম্পাসে বছর দেড়েক অবস্থান করার কিছুদিন পর কুষ্টিয়াস্থ বেসরকারি রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকুরী করার মাঝেই ২০১৮ ইং সালের এপ্রিলে পবিপ্রবির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি হলে দেবাশীষ মন্ডল মৃওিকা বিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক পদে আবেদন করেন। পরবর্তীতে বছরের ১২ মে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দেবাশীষ মন্ডল অনার্সমাস্টার্সে সর্বোচ্চ রেজাল্ট নিয়ে মৌখিক পরীক্ষাতেও ভালো করেছিলেন কিন্তুু তৎকালীন  দুর্নীতিবাজ ভিসি মোঃ হারুনর রশীদ নিয়োগ বোর্ডের সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করে অধিকতর কম যোগ্যতা সম্পন্ন প্রার্থী, অনার্সে মেধাতালিকায় ১৫ তম (সিজিপিএ .৬৬মোঃ রফিক উদ্দীনকে নিয়োগ প্রদান করেন।  মৌখিক পরীক্ষার বোর্ডে সর্বোচ্চ রেজাল্টধারী এবং মেধা তালিকায় ৩য় স্থান প্রাপ্ত  দেবাশীষ মন্ডল নিয়োগ বঞ্চিত হওয়ায় সে খুব উদ্বিগ্ন মানসিকভাবে ভেঙে পরে কর্মস্থল কুষ্টিয়াতে গিয়ে ১৪ মে আত্মহত্যা করলে তৎকালীন ধুরন্ধর ভিসি . হারুন অর রশীদ দেবাশীষ মন্ডলের পরিবার থেকে পবিপ্রবিতে একজনকে চাকুরী দিবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেবাশীষের পরিবারকে মামলা মোকদ্দমা থেকে বিরত রেখে তখন পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে দেবাশীষ মন্ডলের ছোট ভাই আশিষ মন্ডল ল্যাব টেকনিশিয়ান পদে আবেদন করলেও  ভিসি হারুন অর রশীদ তার প্রতিশ্রুতি রাখেননি। বরং ভিসির অপকর্মের সহযোগী মৃওিকা বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক শাহীন হোসেন গং সন্ত্রাসী দিয়ে দেবাশীষ মন্ডলের পরিবারকে প্রতিনিয়ত হুমকি প্রদান অব্যাহত রাখতো যাতে করে দেবাশীষ মন্ডলের আত্মহত্যার জন্য  ভিসি তার সহযোগীরা ভবিষ্যতে নিরাপদ থাকতে পারে। ভিসি হারুন বিদায় নেয়ার ঠিক পুর্বমুহূর্তে ছোটভাই আশিষকে এ্যাডহক ভিওিতে চাকুরী দিবার প্রলোভন দেখিয়ে দেবাশীষ পরিবারের কাছ থেকে একটি অংগীকারনামায় (৩০০ টাকা স্ট্যাম্পস্বাক্ষর করিয়ে নেন যাতে ভবিষ্যতে হারুন গং এই হত্যাকান্ডের দায় থেকে বাঁচতে পারেন।

অভিযোগ রয়েছে, বিদায়ী ভিসি . হারুনর রশীদের মেয়াদকালে  একটি সিন্ডিকেট বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগবানিজ্য নিয়ন্ত্রন করতো। এই নিয়োগবানিজ্য  সিন্ডিকেটের সদস্য ভিসির সাবেক পিএস মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ শাহীন হোসেন, ভিসির ঘনিষ্ঠজন খ্যাত কৃষিতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নওরোজ জাহান লিপি এবং তার স্বামী কৃষিরসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মোঃ মনিরুজ্জামান। অভিযোগ রয়েছে, মোঃ শাহীন হোসেন নওরোজ জাহান লিপি জুনিয়র শিক্ষক হয়েও ভিসি হারুনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হওয়ায় এতটা বেপরোয়া ছিল যে সিনিয়ররা তাদের ভয়ে আতংকে থাকতেন। শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী কেহ তাদের সমালোচনা করলেই তাদের উপর শাস্তির খড়গ নেমে আসতো।  এমনকি কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে  চাকুরীচ্যুত করা হয়েছে। মোঃ শাহীন হোসেন নওরোজ জাহান লিপির বিরুদ্ধে পবিপ্রবির কর্মচারী আব্দুল করীম হত্যারও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। 

অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, পবিপ্রবিতে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয়ার আগেই  শিক্ষক মোঃ শাহীন হোসেন ভিসির নিয়োগ বানিজ্য সিন্ডিকেটের পক্ষে চাকুরী প্রত্যাশীদের সাথে ১৫২৫ লাখ টাকা করে চুক্তি করে ক্লিয়ারেন্স দিলেই কেবল সব বিভাগেই ভিসি হারুন বিজ্ঞপ্তি করতেন। প্রাথীর সাথে চুক্তি অনুযায়ী অর্ধেক টাকা বিজ্ঞপ্তির আগেই সিন্ডিকেটকে পরিশোধ করতে হতো এবং বাকীটা মৌখিক পরীক্ষার আগে। সবকিছু গোপন রাখার শর্তে শিক্ষক মোঃ শাহীন হোসেন চুক্তিবদ্ধ প্রার্থীদেরকে কোরআন হাতে দিয়ে শপথ করাতেন। চাকুরী প্রার্থীর সাথে শাহীন হোসেনের মাধ্যমে লেনদেন হয়ে ভিসির ঘনিষ্ঠজন নওরোজ জাহান লিপি তার স্বামী মনিরুজ্জামান হয়ে ভিসির কাছে চলে যেত। পরবর্তীতে এই টাকা তাদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা হতো। 

পবিপ্রবির ছাত্রশিক্ষক, কর্মকর্তাকর্মচারী, অভিভাবকবৃন্দ এলাকাবাসীর দাবী জানিয়েছেনবাংলাদেশ পুলিশের চৌকস তদন্তকারী সংস্থা পিবিআইকে দিয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মেধাবী ছাএ দেবাশীষ মন্ডল আত্মহত্যার সুষ্ঠু তদন্ত আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। 

 

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest
Share on skype
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on print

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Prothom Kantha
Prothom Kantha

সম্পর্কিত খবর